চাঁদপুরের ট্রায়াংগেল যেন রহস্যময় মৃত্যুকুপ

পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া তিন নদীর সংযোগ ঘটেছে চাঁদুপুরের মোলহেড এলাকায়। নদীগুলো তিনদিক থেকে প্রবাহিত হয়ে মিশে যাওয়ায় সেখানে সৃষ্টি হয় তীব্র স্রোত ও ভয়ংকর ঘূর্ণিপাক। আর চাঁদপুরের নদীপথের এই ট্রায়াঙ্গেলে পড়েই নিখোঁজ হয়েছে শত শত মানুষ, যাত্রীবাহী লঞ্চসহ মালবাহী কার্গো কিংবা ট্রলার। হারিয়ে যাওয়া এসব নৌযানের কোনটির সন্ধান পাওয়া যায়নি আজও। তিন নদীর এ সঙ্গমস্থলটি যেন এক রহস্যময় মৃত্যুকূপ।

চাঁদপুরের তিন নদীর এই সঙ্গমস্থলটি স্থানীয়ভাবে কোরাইল্লার মুখ নামেও পরিচিত। এখানকার ভয়ংকর ঘূর্ণিপাকে তলিয়ে গেছে বড় বড় যাত্রীবাহী লঞ্চ। বর্ষা মৌসুমে অনেক মালবাহী কার্গো ডুবে গেছে তীব্র স্রোতে। যার ফলে সরকারিভাবেও এই জায়গাটিকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

চাঁদপুরের সেই মোহনাটি একেবারে নদীর তীরে অবস্থিত। সাধারণত নদীর তীর অগভীর থাকে। কিন্তু নদীর তীরে হওয়া স্বত্ত্বেও এই মোহনাটি অনেক গভীর। বর্ষাকালে এটি রূপান্তরিত হয় রহস্যময় মৃত্যুকূপে। পানির ভয়ঙ্কর ঘূর্ণি দেখে মানুষের মনে শিহরণ জাগে। এই মোহনা নিয়ে লোকমুখে অনেক গল্প রয়েছে।

বলা হয়ে থাকে, এই মোহনা এক ছেলের অভিশাপে সৃষ্টি হয়েছে। সে হয়তো শত বছর আগের কথা। তখন মোহনাস্থলে কোনো নদী ছিল না। ছিল ছোটখাটো বাজার, হোটেল আর দোকানপাট। নদী ছিল কয়েক কিলোমিটার দূরে। একদিন বিকেলে ছোট এক দ্ররিদ্র ছেলে শিশু একটি হোটেলে গিয়ে খাবার চায়। হোটেলের মালিক তাকে তাড়িয়ে দেয়। ছেলেটি পুনরায় খাবার চাইতে গেলে হোটেলের মালিক রেগেমেগে তার গায়ে গরম তেল ছুড়ে মারে। অসহ্য যন্ত্রণায় চিৎকার করে কাদঁতে কাঁদতে ছেলেটি চলে যায়। ওই রাতেই হোটেলসহ কয়েক কিলোমিটার জায়গা নদীর ভাঙনে পানির অতলে হারিয়ে যায়। বলা হয় এই ছেলের অভিশাপেই নাকি তৈরি হয় এই মোহনা।

ওই ঘটনার বহু বছর পর ওই ঘূর্ণিপাকে পড়ে একটি লঞ্চ ডুবে যায়। তখন ডুবুরিরা লঞ্চের সন্ধানে নদীর তলদেশে গিয়ে দেখে একটি ছোট ছেলে চেয়ারে বসে আছে। ঘটনাগুলো আদৌ সত্যি কি-না তা বলা কঠিন।

তিন নদীর এই মোহনায় জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত তীব্র স্রোত বইতে থাকে। যার ফলে প্রায়ই ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটে এই স্থানে। স্থানীয়রা জানান, মোহনার তীব্র স্রোতের কারণে এখানে বহু যাত্রীবাহী লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটেছে। এমভি শাহজালাল, মদিনা, দিনার ও নাসরিন-১ লঞ্চ ডুবে যায়। সবগুলো লঞ্চেই প্রচুর যাত্রী ছিল। তীব্র স্রোতের কারণে অধিকাংশ যাত্রীই বেঁচে ফিরতে পারেননি। ২০০৩ সালের ৮ জুলাই এমভি নাসরিন-১ লঞ্চ ডুবিতে মারা যান ১১০ জন, নিখোঁজ হন ১৯৯ জন। এখন পর্যন্ত এখানে ডুবে যাওয়া কোনো লঞ্চ ও ট্রলারের সন্ধান পায়নি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ 

চাঁদপুর জেলার প্রায় ৪০টি চরাঞ্চল রয়েছে। এসব এলাকার যোগাযোগের একমাত্র বাহন ইঞ্জিনচালিত নৌকা বা ট্রলার। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশু, নারী ও পুরুষ সবাই এসব ট্রলারে করে নিয়মিত জেলা সদরে যাতায়াত করেন। ফলে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে নিয়মিতই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

এই ট্রায়াঙ্গেলে ২৪ ঘণ্টাই প্রবল ঘূর্ণিস্রোত বইতে থাকে। গত ৩০ সেপ্টেম্বরেও মেঘনা-পদ্মা-ডাকাতিয়া নদীর স্রোতের কবলে পড়ে জেলেদের নৌকা উল্টে ভেসে যান পাঁচ জেলে।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, দিন দিন তীব্রতা বাড়ার মূল কারণ স্রোতের বিপরীত পাশে চর জেগে উঠা। স্রোতের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারলেই দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব।

এই মোহনার পাশ দিয়েই বরিশাল, পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটের লঞ্চ চলাচল করে। তিন নদীর এ সঙ্গমস্থল চাঁদপুর জেলা সদরের অন্যতম একটি পর্যটন স্পট। প্রতিদিনই এখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে।

এই মোহনার পাশ দিয়ে ফিটনেসবিহীন লঞ্চ ও নৌ চলাচল করতে নিষেধ করা হয়েছে।

এমএন

বিনামূল্যে বই বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

নতুন বছরের পাঠ্যবই বিতরণের কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার পর প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয় থেকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। ১ জানুয়ারি সব শিক্ষার্থীর মাঝে বিতরণ হবে নতুন পাঠ্যবই।

পাঠ্যবই বিতরণের কার্যক্রম উদ্বোধনকালে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

আগামীকাল রোববার (১ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে কেন্দ্রীয় পাঠ্যবই উৎসব উদযাপন করবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ের বই উৎসব গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজন করা হবে। আর প্রাথমিক পর্যায়ের বইয়ের কেন্দ্রীয় উৎসব হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে। অনুষ্ঠানে দুই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ বিশিষ্ট ব্যক্তি, কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থাকবেন।

শিক্ষা

শিক্ষার শেষ নেই—–

১. স্ত্রীর পাশে ১-মিনিট বসুন, বুঝতে পারবেন জীবন বড় কঠিন।

২. মাতালের কাছে ১০- মিনিট বসুন, বুঝতে পারবেন জীবন খুব সহজ।

৩. পীরদের সাথে ৩-মিনিট বসুন, আপনার সবকিছু দান করে অবসর নিতে ইচ্ছে করবে।

৪. রাজনীতিবিদের সাথে ৪-মিনিট বসুন, বুঝবেন আপনার পড়াশুনা সব বেকার, অনর্থক।

৫. একজন জীবন বীমা এজেন্টের সাথে ৫-১০ মিনিট বসুন, বুঝবেন বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো।

৬. একজন ব্যবসায়ীর সাথে ৬-মিনিট বসুন, আপনি বুঝতে পারবেন আপনার উপার্জন কিছুই না।

৭. একজন বিজ্ঞানীর সাথে ৭-মিনিট বসুন, আপনি বুঝতে পারবেন আপনার মধ্যে খারাপটা আপনার অজ্ঞতার কারণে।

৮. একজন ভালো শিক্ষকের সাথে ৮-মিনিট বসুন, আপনি একজন ছাত্র হয়ে ফিরে আসতে চাইবেন।

৯. একজন কৃষক বা শ্রমিকের সাথে ৯-মিনিট বসুন, আপনি বুঝতে পারবেন আপনি কঠোর পরিশ্রম করেন না।

১০. একজন সৈনিকের সাথে ১০-মিনিট বসুন, আপনি বুঝতে পারবেন আপনার কাজ এবং ত্যাগ অত্যন্ত ঘৃণ্য।।

১১. একজন ইতিবাচক মনোভাব সম্পন্ন ভালো, উদার মনের প্রকৃত বন্ধুর সাথে ১০-মিনিট বসুন, মনে হবে আপনার জীবন স্বর্গের চেয়েও সুন্দর ।

ইতিহাসের কলঙ্কিনী করিমুন নেছা

……………..কলঙ্কিনী করুমুননেসা……………

“ইটার রাজা কটু মিয়া লংলাত করলা বিয়া,
বড় স্বাদ আছিল কটুর লংলা দেখতা গিয়া”

কিংবা….
‘লংলা গাঁইয়া বেটি গো উঁছাত বান্ধো খোঁপা, হাইর গলাত ছিয়া ফালাইয়া দেশো রাখছো খোঁটা!
সিলেটি প্রবাদ হিসেবে সিলেটের প্রবীণ মানুষের মুখে এখনো শোনা যায়। পুরো সিলেটে যেনো এক ঘৃণিত চরিত্র। হৃদয়ের ভালোবাসাই তাকে ঘৃণার মানুষে পরিণত করেছে।

করিমুননেসা চৌধুরী সিলেট মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার লংলা পরগণার কানাইটিকরের জমিদার গজম্বর আলী চৌধুরীর মেয়ে। রূপে গুণে অনন্যা করিমুন জমিদারকন্যা হলেও আভিজাত্যের প্রতি কোনো প্রকার মোহ ছিলো না তার। সহজ সরল মিষ্টভাষিণী প্রজাবৎসল জমিদার কন্যার মনে ধনী-দরিদ্রের কোন ভেদ ছিলো না । খাজনা পরিশোধে অপারগ প্রজাদের প্রতি জমিদার নিযুক্ত সরকার,পাইক পেয়াদার অত্যাচারের দৃশ্য তাঁকে বিচলিত করতো। জমিদারি শাসন নিয়ে ব্যস্ত পিতার কাছ থেকে তিনি তেমন একটা আদর ভালবাসা পাননি। পিতাকে সব সময়ই ব্যস্ততম অবস্থায় দেখেছেন। পরিবারের অন্যান্য মহিলা সদস্যদের চোখে তাঁর পিতার প্রতি ভালোবাসা নয়, ভয় দেখে দেখেই তিনি বড় হয়েছেন। জমিদার মহাশয় শুধু পরিবারে নয়,তাঁর স্টেট এরিয়ার মধ্যে যা বলেন তাই হত।

ভালোবাসার কাঙাল- করিমুননেসা সুবিশাল জমিদার বাড়ির ব্যস্ততম সকল সদস্যের ভীড়ে কাজের লোক ও নানকারদের সাথেই সখ্যতা গড়ে তুললেন। পরিবারের লোক সেটিকে ভালভাবে নিতে পারছিলনা ।প্রাণচঞ্চল কিশোরী জমিদার কন্যার জানার-পড়ার আগ্রহ প্রচুর। করিমুননেসার শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হল বাবার কাচারি ঘরের নিযুক্ত সেরেস্তাদার (হিসাব রক্ষক)কে। তিনি অবসর সময়ে তাঁকে পড়া দেখিয়ে দিতেন। তরুণ সেরেস্তাদার আবুল কালামের নিকট করিমুননেসা আরবি-ফারসি, গণিত হিসাব নিকাশ শিখতে লাগলেন।পাঠের ফাঁকে মনের অযান্তেই মন বিনিময় হয়ে যায় দুজনের মাঝে। কিন্তু মুখ ফুটে কেউই কাউকে বলতে পারেন নি।…………

বলেননি সাহসের অভাবে। এরই মাঝে বিয়ে ঠিক হয় করিমুননেসার। পাত্র ইটার জমিদার দেওয়ান মো. মনসুর ওরফে কটু মিয়া। বাবা দেওয়ান মো. সাকির মৃত্যুর পর তিনি একাই ইটার বিশাল জমিদারি দেখাশোনা করছেন।

বিয়ের খবরে করিমুননেসার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল! ইচ্ছা করছিল চিৎকার করে বলতে এই বিয়েতে মত নেই আমারও পছন্দ থাকতে পারে! কিন্তু জমিদার পিতার মুখের উপর কথা বলার সাহস কারো নেই। কাউকে বললেও কিছু হবে না। অনিচ্ছা সত্বেও নিজের নিয়তি কে মেনে নিয়ে বিয়ের পর বাবার বাড়ি ছেড়ে করিমুননেসার ঠিকানা হয় ইটায়। একা সংসারে ভালো লাগে না করিমুন নেসার। স্বামীরও সময় নেই তিনি তার ব্যস্ত জমিদারি আর ভোগ-বিলাস নিয়ে। প্রায়সঃ কটু মিয়ার রাত্রি কাটে বাঈজী মহলে। ঘরে ফিরলেও প্রায় সময় থাকেন মাতাল।

স্বামীর সংসারে ভালোবাসার দেখা পেলে হয়তো প্রথম প্রেম ভুলেও যেতেন করিমুননেসা। একাকিত্ব তার ভেতর কে দুমড়ে মুচড়ে একাকার করে ফেলে তাঁর। বিয়ের পর বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে করিমুননেসার আবার দেখা হয় তার গৃহশিক্ষকের সাথে ভালোবাসার কাঙ্গাল । করিমুননেসা সিদ্ধান্ত নেন আর ফিরে যাবেন না ইটায়। এরই মাঝে কটু মিয়া বেড়াতে আসেন লংলায়। ঐদিন রাত্রে শ্বশুরবাড়িতে রহস্যজনক মৃত্যু হয় কটু মিয়ার। ঘটনা ধামাচাপা দিতে জমিদার গজম্বর আলী চৌধুরী কটু মিয়ার লাশ ইটায় পাটিয়ে দেন এবং চিঠি লিখে উল্লেখ করেন কলেরা হয়ে মারা গেছেন ইটার জমিদার। কিন্তু গোসলের সময় লাশের মুখে রক্ত দেখে কটু মিয়ার পরিবার থানায় ডাইরি করেন। শুরু হয় পুলিশ তদন্ত…।

এ মৃত্যু নিয়ে সিলেটে অনেক লোকগল্প প্রচলিত আছে, কোনো গল্পমতে খোঁপার কাঁটায় গেঁথে করিমুননেসা হত্যা করেন কটু মিয়াকে। কোনো কাহিনী বলছে, গলায় ধান ভানার লাটি (ছিয়া) চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে কটু মিয়াকে হত্যা করেন করিমুননেসা। আবার কোনো কাহিনী অনুসারে শরবতের সাথে বিষ খাইয়ে স্বামীকে হত্যা করেন করিমুননেসা।

করিমুননেসা সেরেস্তাদার আবুল কালামের সাথে পালিয়ে বিয়ে করে আত্মগোপনে করেন।
করিমুন নেছার পলায়ন সন্দেহের তীর তার দিকেই ধেয়ে আসে। ১৮৭০ সালের এ ঘটনায় মামলা উঠে সিলেটের আদালতে।
গ্রেপ্তারি পরওয়ানা জারি হয় কিন্তু পুলিশ তাকে ধরতে পারেনা। এদিকে কটু মিয়ার পরিবার বৃটিশ জমিদার হওয়াতে বেশ প্রভাব, মামলা দ্রুত রানিং এ উঠে।
নবাব আমলী জমিদার গজম্বর আলী চৌধুরী হাল না ছেড়ে মামলার মোকাবেলা করতে লাগলেন। চলতি বছর খরায় পর্যাপ্ত খাজনা আদায় না হওয়া হত্যা মামলা এবং ঘন ঘন শুনানী….মামলা সামাল দিতে গিয়ে করিমুননেসার বাবা একের পর এক মৌজা বিক্রি করতে লাগলেন। করিমুননেসা তখন আত্মগোপনে। এদিকে করিমুননেসাকে ধরার জন্য পুরষ্কার ঘোষণা করা হল।

পুলিশ কিছুতেই নাগাল পাচ্ছিলো না তাঁর। পরে পীরের ছদ্মবেশে অনুসন্ধানে নামেন মামলার তদন্তকারী দারোগা আহসান রেজা চৌধুরী। তার কৌশল কাজে দেয়। বিবেকের দংশনে পুড়তে থাকা করিমুননেসা পীর ভেবে দারোগার কাছে এসে মনের শান্তির জন্য সব কিছু খুলে বলেন
জানান সেদিন রাত্রের প্রকৃত ঘটনা!
শ্বশুর বাড়ির জলসা ঘর থেকে কটু মিয়া ঘরে প্রবেশ করলে করিমুননেসা যথারীতি সরবতের দুইটা গ্লাসের মধ্যে একটিতে বিষ গুলেন এবং কটুমিয়া কে জানান তাকে মুক্তি না দিলে তিনি সরবতে মেশানো বিষপানে আত্মহত্যা করবেন। কটু মিয়া কারণ জানতে চাইলে জমিদারি প্রথার প্রতি করিমুননেসার অনিহা, স্বাভাবিক জীবন যাপনে আগ্রহ এবং সেরেস্তাদারের প্রতি ভালোবাসার আকুলতা প্রকাশিত হয়। কটুমিয়া সেরেস্তাদার কে ঢেকে আনেন এবং এ বিষয়ে জানতে চান। সেরেস্তাদার আবুল কালাম ভালোবাসার কথা স্বীকার করে এবং করিমুনের জন্য যেকোন কিছু করতেও রাজি জানালে কটু মিয়া স্ত্রী কর্তৃক ত্যাগ হওয়ার আত্মসম্মান এবং স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার কারণে জানান এক বনে দুই বাঘ থাকতে পারেনা।
ভালোবাসার প্রমান দিতে সেরেস্তাদার এবং জমিদার কটু মিয়া করিমুননেসার উপস্থিতিতেই দুজনে দুইটি সরবতের গ্লাস হাতে তুলে নেন। দূর্ভাগ্যবশত বিষযুক্ত গ্লাস কটু মিয়ার হাতে যায়। মুহুর্তেই কটুমিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
করিমুননেসা চাইলেই আটকাতে পারতেন কিন্তু তিনি তা করেন নি। এবং মনের শান্তি বিবেকের দংশন থেকে পরিত্রাণের উপায় প্রার্থনা করেন । পরে ঐ দারোগাই তাকে আটক করে তাঁর গ্রামে নিয়ে আসলে উত্তেজিত জনতা করিমুননেসার চুল কেটে দিয়ে কোর্ট হাজতে সোপর্দ করে।

১৮৭০ সাল… দিন তারিখ জানা যায়নি, তবে দিনটা অন্যান্য দিনের চেয়ে বেশ গম্ভীর ছিল। করিমুন নেছাকে কোর্টে হাজির করা হয়। কিন্তু সেদিন তার পক্ষে সিলেট কোর্টে কোন আইনজীবী ছিলেন না। শান্ত কোমল স্বভাবের ১৫-১৬ বছরের কিশোরী করিমুননেছা আদালতে নিজেকে বাঁচানোর কোনো চেষ্টাই করলেন না । বরং বাঁচাতে চেয়েছিলেন তাঁর ভালোবাসাকে! সবাইকে অবাক করে দিয়ে সব দোষ একা নিজের ঘাড়ে নিয়ে ১৬৪ ধারায় তিনি জবানবন্দি দিলেন এবং ভালবাসার মানুষ সহ বাকিদের নির্দোষ দাবি করে মুক্তি প্রার্থনা করলেন।
তবে আদালত তা মানেননি। বিচারক কভার্ন করিমুননেসাসহ ৪ জনকে ফাঁসির দন্ড প্রদান করেন। সিলেটের ইতিহাসে সেই প্রথম কোন মহিলা এবং প্রথম একসাথে এতজনের ফাঁসির দন্ড হয়। সিলেট কারাগারেই করিমুননেসা, সেরেস্তাদার আবুল কালাম সহ মোট চার জনের ফাঁসি কার্যকর হয়।
জমিদার কন্যার লাশ হস্তান্তর করার জন্য কোন ওয়ারিশ পাওয়া যায়নি……. তার লাশ কেউ গ্রহণ করতে আসেনি!

বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে তার দাফন হয় সিলেট শহরের অদূরে বর্তমান দঃ সুরমা উপজেলাধীন গোটাটিকর এলাকার ষাইটঘরের জামে মসজিদ সংলগ্ন গোরস্থানে।
করিমুননেসার কর্তিত চুল দীর্ঘদিন ধরে রাখা ছিল সিলেটের তোপখানা (ক্বীনব্রীজের নিচে) নওয়াব আলী আমজদ খাঁর ঐতিহাসিক ঘড়ি ঘরে। ইতিহাসে করিমুনেসার স্থান হয়েছিল কলঙ্কিনী রূপে।তার এই কলঙ্কের মাসুল দিতে তার পিতাকে জমিদারীর পুরোটাই হারাতে হয়েছিল।লাঞ্চনা থেকে রেহাই পেতে করিমুনের পিতা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে গ্রাম ছেড়ে দূরে প্রায় নির্জনে বাকি দিন অতিবাহিত করেন। লংলার কানাইটিকর গ্রামে পড়ে আছে সাহেব বাড়ির কিঞ্চিত নিদর্শন।
করিমুন নেছাকে গ্রেপ্তার করার কারণে দারোগা এহসান রাজা চৌধুরী পুরস্কৃত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তার নিয়োগ হয়েছিল পৃত্থিমপাশা স্টেট এর ম্যানেজার হিসেবে।
দুর্ভাগা কটু মিয়ার মৃত্যুর পর তাঁর দেওয়ানির সবটুকুই বিলীন হয়ে যায়।
ইটার বিশাল জমিদার কটু মিয়ার বাড়ির কিছুই অবশিষ্ট নেই কিছু ধ্বংসস্তুপ ছাড়া।
শুধুমাত্র করিমুননেসার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই কুলাউড়ার লংলা এলাকার মেয়ে বিয়ে করিয়ে আত্মীয়তার বন্ধন তৈরীতে ঘটনার প্রায় ১৫০ বছর পরেও বহু মানুষ বৈরীতা প্রকাশ করে!
লংলায় জন্ম নেওয়া নিরীহ মেয়েরা আজও অজ্ঞ সমাজে অনাকাঙ্ক্ষিত খোঁটার শিকার হয়।

‘কলঙ্কিনী’ করিমুননেসাকে কেউ আর স্মরণ করে না। কিন্তু ইতিহাসে ভালোবাসার এক ‘নিষিদ্ধ’ নাম হয়েই টিকে আছেন তিনি।

তথ্য সংগ্রহঃ প্রবাদ, লোককথা নিরীক্ষণ, বিভিন্ন মিডিয়ার সহযোগীতা গ্রহণ করা হয়েছে।

গ্যাস-বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হতে হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখা করে এক বার্তায় এ আহ্বান জানান তিনি। (৫ জুলাই) মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ এর প্রভাব সব জায়গায় পড়েছে। করোনার ধাক্কা যখন সবাই কাটিয়ে উঠছিল তখনই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পুরো বিশ্বকে গভীর সংকটে ফেলেছে। এই সংকট শুধু উন্নয়নশীল দেশেই নয়, অনেক উন্নত দেশেও প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি মার্কেট চরম অস্থিতিশীল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক খাদ্য পণ্যের বাজারও বেসামাল। বৈশ্বিক এই সংকট আমাদেরকেও বিপদে ফেলেছে।’

প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, আপনারা জানেন যে সম্প্রতি বাংলাদেশ ৫২ বিলিয়ন ডলারের রফতানির অনন্য মাইলফলক অর্জন করেছে। অর্থাৎ গত একযুগে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে আমাদের শিল্পায়ন অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে ‘দিন বদলের ইশতেহারে’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সবার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবেন। সেই রূপকল্প আমরা বাস্তবায়ন করেছি। মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস বিদ্যুতের কোনও বিকল্প নাই। আমরা সে লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু যুদ্ধের কারণে হঠাৎ ছন্দপতন সব জায়গাতেই’।

উন্নত দেশ জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। ভারত-পাকিস্তানের বিদ্যুৎ সংকেটর বিষয়টিও সামনে আনেন। সবাইকে এই সংকটকালীন সময়ে রেশনিং করতে হচ্ছে বলে জানান নসরুল হামিদ।

বাংলাদেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ সংকেটর বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ১৬০০-১৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। সেখানে আমরা দিতে পারছি মাত্র ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এর বেশি গ্যাস আমরা দিতে পারছি না, কারণ অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে কৃষি ও শিল্পখাতকে। কৃষির জন্য সার অপরিহার্য। সার উৎপাদনেও আমাদেরকে অনেক গ্যাস দিতে হচ্ছে’।

তিনি বলেন, আমাদের বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের উৎপাদন ২৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। চাহিদার বাকি বৃহৎ অংশ এলএনজি আমদানি করে জাতীয়

গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার সময়ও গ্যাসের উৎপাদন ছিল দৈনিক মাত্র ১৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট। সেখান থেকে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়েছিলাম দৈনিক ২৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত। ২০১৮ সাল পর্যন্ত আমরা গ্যাস উৎপাদন করেছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের খনিগুলোর রির্জাভ কমে যাওয়ার কারণে আমাদের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন কমতে শুরু করেছে’।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এলএনজি আমদানির জন্য কাতার এবং ওমানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় আমরা এলএনজি পাচ্ছি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি আমদানি হতো। কোভিড-১৯ এর আগে ১ ইউনিট এলএনজি ৪ ডলারেও আমদানি করেছি, বর্তমান পরিস্থিতিতে ৪১ ডলার ছাড়িয়েছে। উচ্চমূল্যে আমদানি করলে আমাদের অর্থনীতির উপর বিশাল চাপ তৈরি হবে। শুধু গ্যাসের দামই না। বেড়েছে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম। ২০২১ সালের জুলাইয়ে ডিজেল ব্যারেল প্রতি ৭৭ ডলার ছিল, এ বছরের জুনে ১৭১ ডলারে দাঁড়িয়েছে’।  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার নিজস্ব জ্বালানির অনুসন্ধান, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান কূপগুলোয় আরও গভীরে খনন করে গ্যাসের অনুসন্ধান কাজ চালাচ্ছে। এরই মধ্যে আগামী ৩ বছরের আপগ্রেডেশন, ওয়ার্কওভারের স্বল্প মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছি যাতে ৪৬টি কূপ থেকে দৈনিক ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস নতুন করে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে- এমনটাই বলেন নসরুল হামিদ।

এ পরিস্থিতি খুব বেশিদিন থাকবে না আশাব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি বছরেই পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ভারত থেকে ১৬০০ মেগাওয়াট আমদানিকৃত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে’। 

নসরুল হামিদ বলেন, ‘চলমান সংকটে জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি বিশ্বাস রাখতে বলবো। সবার কাছে একটাই অনুরোধ আসুন আমরা সবাই গ্যাস-বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যায়ী হই’।

অনেক দেশেই বিদ্যুতের সংকট, ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বব্যাপী উৎপাদনকারী উপাদানের অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশে বিদ্যুতের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সবার প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন সরকারপ্রধান।

প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার সকালে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা সেনানিবাসের পিজিআর সদর দপ্তরের অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘চলমান করোনাভাইরাস এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, গ্রেট ব্রিটেনের মতো উন্নত দেশগুলোসহ বিশ্বব্যাপী মূদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি কয়লা না পাওয়া এবং গ্যাস ও ডিজেলের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী উপাদানের অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধির কারণে সেখানেও এখন বিদ্যুতের তীব্র সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।’

মহামারি করোনাভাইরাস এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মূদ্রাস্ফীতির ক্রমবর্ধমান প্রবণতা, বিদ্যুতের অভাব এবং বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকটের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের শুরু থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। আমরা যদি সাবধানে এগিয়ে যাই, ইনশাআল্লাহ আমাদের কোনো সমস্যা হবে না, এটা আমার বিশ্বাস।’ তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে নিয়মিত জাহাজ চলাচল না করায় বিশ্ব বর্তমানে পরিবহন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, পরিবহন ব্যয় অত্যাধিক বৃদ্ধি পেয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানির ব্যবহার কমাতে এলাকাভিত্তিক নির্দিষ্ট সময়ের লোডশেডিং করে বিদ্যুতের ব্যবহার কিছুটা কমানো যায় কি-না সে চিন্তাও করছেন তিনি। তবে সে ক্ষেত্রে আকস্মিক নয়, মানুষকে প্রস্তুত থাকার সময়টা দিয়েই তা করা যেতে পারে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিদ্যুতের ব্যাপারে আমাদের শুধু সাশ্রয়ীই হলে চলবে না। আমি যেমন চিন্তাও করেছি কিছুটা সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন একটু কমিয়ে দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে উপাদানগুলো সেগুলো যেন আমরা কম ব্যয় করতে পারি।’

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে দেশবাসী প্রতিদিন আট থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং প্রত্যক্ষ করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন বিশ্বপরিস্থিতির কারণে সংকট উত্তরণে এলাকাভিত্তিক কিছুটা লোডশেডিং চলতে পারে।’

সরকার প্রধান বলেন, ‘এখন আমরা একটা সুনির্দিষ্ট সময় যদি ধরে দেই যে একেক এলাকাভিত্তিক কিছুক্ষণের জন্য সেখানে বিদ্যুতের কিছুটা লোডশেডিং হবে, হঠাৎ যাবে হঠাৎ আসবে না, মানুষ প্রস্তুতি নিতে পারবে। সেভাবেই আমাদের কিছু কিছু পদক্ষেপ এখন থেকেই যদি আমরা নেই তাহলে আগামী দিনে যে আরো সমস্যাটা দেখা দিতে পারে সে পরিস্থিতি থেকে আমরা নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারবো।’

‘অনেক উন্নত দেশে দুর্ভিক্ষ শুরু হয়েছে’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতি ইঞ্চি জমি এবং জলাশয়কে কাজে লাগানোর মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ব্যক্তি থেকে প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সে ক্ষেত্রে, আমরা যদি সাশ্রয়ী হয়ে উঠি এবং আমাদের সঞ্চয় বাড়াতে পারি তাহলে যেকোন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারবো।’

সরকার প্রধান বলেন, তার সরকার প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে এবং দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে প্রতিটি গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষকে ঘর-বাড়ি করে দিচ্ছে।

পারমাণবিক অস্ত্র কি?

পারমাণবিক অস্ত্র এমন এক ধরনের যন্ত্র যা নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার ফলে প্রাপ্ত প্রচণ্ড শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি করে। সে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া ফিসানের ফলে অথবা ফিসান ও ফিউশান উভয়েরই সংমিশ্রনেও সংঘটিত হতে পারে। উভয় বিক্রিয়ার কারণেই খুবই অল্প পরিমাণ পদার্থ থেকে বিশাল পরিমাণে শক্তি নির্গত হয়। আধুনিক এক হাজার কিলোগ্রামের একটি থার্মো-নিউক্লিয়ার অস্ত্রের বিস্ফোরন ক্ষমতা প্রচলিত প্রায় ১ বিলিয়ন কিলোগ্রামের প্রচণ্ড বিস্ফোরক দ্রব্যের চেয়েও বেশি।

এভাবেই শুধুমাত্র প্রচলিত বোমার সমান আকারেই একটি পারমাণবিক বোমা দ্বারাই একটি শহরকে ধ্বংস করে দেয়া যায়। পারমাণবিক অস্ত্রকে ধরা হয় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের এক বোমা হিসেবে। একারণেই আন্তজার্তিক বিভিন্ন নিয়ম-নীতিমালা প্রণয়নে তাদের ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ সবসময়ই একটি আলোকিত বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ

যুদ্ধের ইতিহাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মাত্র দুটি পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরিত করা হয়েছিল। লিটল বয় নামের প্রথম বোমাটি ৬ আগস্ট ১৯৪৫ সালে জাপানের হিরোশিমাতে এবং ফ্যাট ম্যান নামক দ্বিতীয় বোমাটি তিনদিন পর জাপানের নাগাসাকিতে নিক্ষেপ করা হয়। কিন্তু এর ফলাফল ছিল ভয়াবহ। প্রচণ্ড বিস্ফোরন ও ক্ষতিকর আলোক-কণা বিকিরণের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে মারা গিয়েছিল প্রায় ১২০,০০০ লোক এবং আয়নাইজিংয়ের ফলে ধীরে ধীরে আরো অসংখ্য মানুষ মারা গিয়েছিল। এ বোমার বিস্ফোরন এবং কোন দেশের অস্ত্রভান্ডারে এ বোমার সংরক্ষণ খুবই বিতর্কিত একটি বিষয়।

সম্পৃক্ত দেশসমূহ

হিরোশিমা ও নাগাসাকির সেই বিস্ফোরনের পরেও এখন পর্যন্ত আরও পাঁচ শতাধিকবার পরীক্ষামূলকভাবে এবং প্রদর্শনের জন্য এ বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। বর্তমানে পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরন ঘটিয়েছে এবং মজুদ রয়েছে এমন দেশগুলো হল – যুক্তরাষ্ট্ররাশিয়াযুক্তরাজ্যফ্রান্সচীনভারত ও পাকিস্তান। এছাড়া এটা ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয় যে – উত্তর কোরিয়াইরানইসরাইলেও পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে।

যে কারণে শয়তান এখনো আফসোস করে

শয়তান মানুষের একটি আমল দেখলেই কান্নাকাটি করে, আফসোস করে। কেননা শয়তান আল্লাহর নির্দেশে এ আমলটি অমান্য করেই বিতাড়িত হয়েছিল। কী সেই আমল?

কোরআনুল কারিমের অনেক স্থানে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে সেজদা করার নির্দেশ দিয়েছেন। যখন মানুষ কোরআন তেলাওয়াতের সময় সেজদার নির্দেশগুলো পড়েন; সঙ্গে সঙ্গেই তারা সেজদা আদায় করেন। চাই তা নামাজে হোক কিংবা এমনি তেলাওয়াতে হোক। মানুষের এই সেজদার দৃশ্য দেখেই শয়তান কান্নাকাটি করে এবং আফসোস করতে থাকে। কেননা শয়তান আল্লাহর নির্দেশ মেনে সেজদা করা থেকে বিরত থেকেছিল। যার ফলশ্রুতিতে সে হবে চিরস্থায়ী জাহান্নামী। হাদিসে পাকে এসেছে-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আদম-সন্তান যখন (কোরআন তেলাওয়াতের সময়) সেজদার আয়াত পড়ে (আল্লাহকে সঙ্গে সঙ্গে) সেজদা করে; তখন শয়তান কাঁদতে কাঁদতে এবং এ কথা বলতে বলতে চলে যায়-
‘হায় আফসোস! আদম-সন্তানকে সেজদার আদেশ দেওয়া হলো; আর সে সেজদা করলো; ফলে সে জান্নাতের অধিকারী হয়ে গেলো; অন্যদিকে আমাকে সেজদার আদেশ দেওয়া হলো; আর আমি তা প্রত্যাখ্যান করে হলাম জাহান্নামের অধিকারী।’ (মুসলিম)

এ হাদিস থেকেও বুঝা যায় যে, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল ‘সেজদা’। আর এই সেজদাতেই বান্দা আল্লাহর খুব কাছাকাছি হয়ে যায়। এ কারণেই সেজদায় আল্লাহর কাছে চাওয়া-পাওয়ার বিকল্প নেই। দোয়া-ইসতেগফারের বিকল্প নেই।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বেশি বেশি সেজদা করে তাঁর হুকুম ও দাসত্ব মেনে নেওয়ার তাওফিক দান করুন। শয়তানের উপর বিজয়ী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

বাঘের সাথে মায়ের লড়াই, ১ কিমি পিছু করে বাঁচিয়ে আনলেন নিজের বাচ্চাকে

এক মা তার বাচ্চার জন্য যে কোনো সীমা অবধি যেতে পারেন, যে কোনো বাধা অতিক্রম করতে পারেন। আর এর তাজা উদাহরণ পাওয়া গেছে ভারতের এক গ্রামে। ভারতের মধ্যপ্রদেশের বাড়িঝিরিয়া গ্রামের আট বছরের এক বালককে তুলে নিয়ে যায় একটি চিতাবাঘ। সিধি জেলার সঞ্জয় গান্ধী জাতীয় উদ্যানের পাশে অবস্থিত এই গ্রাম টি। সেই গ্রাম এরই বাসিন্দা কিরন নামক এক বাসিন্দা।

জানা যাচ্ছে রবিবার সন্ধ্যা নাগাদ তিনি রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন।তার তিন সন্তান বাইরে খেলছিল আচমকাই একটি চিতাবাঘ এসে তিন সন্তানের মধ্যে একটি আট বছরের ছেলেকে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনাটি দেখতে পেয়ে বাঘের পিছনে প্রায় ১ কিলোমিটার ছুটে যান সেই মহিলা। কিন্তু ততক্ষনে বাঘ সেই বাচ্চাটিকে নিয়ে জঙ্গলএর মধ্যে লুকিয়ে যায়। কিরন দেবি খুব সাহসের সাথে বাঘ কে যে কোনো ভাবে ভয় দেখাতে থাকে।

যার ফলে বাঘটি তার উপর পালটা আঘাত হানে অবশেষে লাঠির বাড়ি দিতেই চিতাবাঘটি বাচ্চাটিকে ফেলে জঙ্গলে পালিয়ে যায়। আহত অবস্থা তেই ছেলে কে উদ্ধার করে আনেন তিনি। মৃত্যুর সাথে লড়াই করে নিজের বাচ্চাকে এক মা যেভাবে জীবনদান করেছেন তা সকলকে অবাক করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে এই মাকে প্রণাম জানিয়েছেন এবং অভিনন্দন জানিয়েছেন।

এই ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন ঝোপের আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে তার ছেলের মুখে কামড়ে দিয়ে জঙ্গলে পালিয়ে যায় বাঘটি পরে প্রায় ১ কিলোমিটার ধাওয়া করে বাঘের সাথে রীতিমতো লড়াই শেষে ছেলেকে বাঘের মুখ থেকে ছিনিয়ে আনেন তিনি। এক মা এর এমন সাহসিকতার ঘটনা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অবধি এই ঘটনা শুনে হতবাক হয়েছেনে এবং ওই মাকে প্রণাম জানিয়েছেন।

নিরাপদ পানি পানের সুযোগ তৈরীতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি মানবাধিকার লঙ্ঘন; ইউনিসেপ

গুণগতমান, সবার জন্য সহজলভ্য ও টেকসই ব্যবস্থা

বাংলাদেশে বিশ্বের সর্বাাধিক আর্সেনিক দূষণ আক্রান্ত মানুষের বসবাস

বিশুদ্ধ পানি সব ধরনের মানবাধিকারের ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃত।

সবার জন্য উন্নত উৎসের পানি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। ৯৭ শতাংশের বেশি মানুষের উন্নত উৎসের পানি পাওয়ার সুযোগ আছে, জানা যায় ২০১৩ সালের একটি জরিপে

তবে পুরোপুরি নিরাপদ পানি পানের সুযোগ এখনও সীমিত, মাত্র ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ।

২০০০ সালের তুলনায় ২০১২ সালে আর্সেনিক যুক্ত পানি পানকারীর হার ২৬ দশমিক ৬ থেকে কমে ১২ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। এরপরেও বিশ্বে সবচেয়ে বেশি আর্সেনিক দূষণ আক্রান্ত মানুষের বসবাস বাংলাদেশে।

অগ্রগতি সত্ত্বেও এক কোটি ৯৪ লাখ মানুষ এখনও সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণে থাকা আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করছে। এছাড়া পানিতে ম্যাঙ্গানিজ, ক্লোরাইড ও লৌহ দূষণের কারণেও খাওয়ার পানির মান খারাপ থাকে।

বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ পানির উৎসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মানের চেয়ে বেশি মাত্রায় ম্যাঙ্গানিজের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

মলের জীবাণু রয়েছে এমন উৎসের পানি পান করছে ৪১ শতাংশের বেশি মানুষ। এক্ষেত্রে স্বল্প শিক্ষিত নগরবাসী সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে ২০১৩ সালের জরিপে বলা হয়েছে।

শহরাঞ্চলের এসব পরিবারে যে পানি খাওয়া হয় তার এক তৃতীয়াংশেই উচ্চমাত্রার ই-কোলাই ব্যাক্টেরিয়া থাকে, যা ডায়রিয়ার অন্যতম কারণ।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, উৎস থেকে বাসাবাড়িতে পানি সরবরাহের সময় এতে আরও বেশি ভাইরাস-ব্যাক্টেরিয়া চলে যায়।

প্রতি পাঁচটি পরিবারের মধ্যে দুটি, অর্থাৎ বাংলাদেশের ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস-ব্যাক্টেরিয়া দূষিত উৎসের পানি পান করে।  আবার ঘরের কল বা টিউব-ওয়েলের আশপাশ পরিষ্কার না থাকায় বিভিন্ন অণুজীবযুক্ত পানি পানকারীর সংখ্যা হয়ে দাড়ায় নয় কোটি ৯০ লাখ

পাহাড়ি এলাকা, শহরের বস্তি, দ্বীপাঞ্চল, উপকূলীয় ও জলাভূমিতে এই পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। এসব জায়গায় বিশ্বাসযোগ্য পানির উৎস পাওয়া কঠিন

সারা দেশের স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রগুলোতে পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও হাইজিনের অবস্থা ভালো না হওয়ায় সেগুলো থেকেও জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয় এবং তা নবজাতক ও মাতৃ মৃত্যু হার কমানোর অগ্রগতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশে ২০১৫ সালে যত নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে তার প্রায় ২০ শতাংশই হয়েছে জীবাণু সংক্রমণের কারণে।

এছাড়া ঘনঘন বন্যা, ভূমিধ্বস ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণেও পানির উৎস দূষিত হয়ে পড়ে। বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে শৌচাগার উপচে ময়লা ছড়িয়ে পানির উৎস দূষিত হয়ে পড়ে।

জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অধিক সংখ্যায় মানুষ নগরমুখী হওয়ার কারণে এসবের সম্মিলিত প্রভাবে বাংলাদেশে পরিবেশগত দুর্যোগ ঘটে।

শিল্পবর্জ্য, সেচের জন্য অতিরিক্ত পানি উত্তোলন এবং জমিতে লবণাক্ত পানির কারণে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণও বাংলাদেশে পানির গুণগত মানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

অঞ্চলভেদেও পানির মানে উল্লেখযোগ্য অসমতার প্রমাণ পেয়েছে ইউনিসেফ।যেমন রংপুর বিভাগে ৭১ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ ই-কোলাই ব্যাক্টেরিয়ামুক্ত পানি পান করে। সেখানে সিলেটে এ হার মাত্র ৩১ দশমিক ৬ শতাংশ।

ধনী-দরিদ্র ভেদেও মানসম্পন্ন পানি পাওয়ার সুযোগে তফাৎ রয়েছে। ধনীরা নিজেদের বাড়িতেই খাওয়ার পানির ব্যবস্থা করে। অপরদিকে সরকারি বা অন্য কোনো উৎস থেকে পানি আনতে দরিদ্র মানুষরা আলাদা করে সময় আর শ্রম দিতে বাধ্য হয়। 

ইউনিসেফের ২০১৩ সালের একটি জরিপে পানির সংগ্রহে নারী-পুরুষের ভূমিকার ভিন্নতা দেখা গেছে। ৮৯ দশমিক ৬ শতাংশ নারী পরিবারের জন্য পানি সংগ্রহ করেন। অপরদিকে এই দায়িত্ব পালন করেন মাত্র ৪ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ।

নিরাপদ খাবার পানি এবং স্বাস্থ্যকর পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থার অভাব  শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা, সুরক্ষাসহ অন্যান্য বিষয়ের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

ঘনঘন বন্যা, ভূমিধ্বস ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণেও পানির উৎস দূষিত হয়ে পড়ে

আর্সেনিক মুক্ত ইউনিয়ন ও উপজেলার উদাহরন ব্যবহার করে ইউনিসেফ সমন্বিত মডেল উপস্থাপন করে

সবার জন্য নিরাপদ খাবার পানির টেকসই ব্যবস্থার জন্য ইউনিসেফ তিনটি পর্যায়ে কাজ করে: পানির উৎস, পানি পৌঁছানোর সেবা এবং পানি খাত।

শিশু, বিশেষ করে সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া শিশুদের অধিকার রক্ষায় সরকার ও সহযোগীদের সঙ্গে মিলে কাজ করে ইউনিসেফ। জরুরি পরিস্থিতিতে সবচেয়ে নাজুক ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের নিরাপদ পানি সরবরাহেও কাজ করা হয়।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করে বহুমুখী পদক্ষেপ নেয় ইউনিসেফ। শহর ও গ্রামাঞ্চলের পাড়া-মহল্লার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পানি সরবরাহ কার্যক্রম জোরদারে ইউনিসেফ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও পরিচ্ছন্নতার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে সহযোগিতা দিচ্ছে ইউনিসেফ। এতে করে শিক্ষার্থীদের ভর্তি, উপস্থিতি এবং লেখাপড়া শেষ করা ও শিক্ষা অর্জনে অগ্রগতি আসছে। ইউনিসেফের একই কার্যক্রমে প্রারম্ভিক শৈশব সেন্টারগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

স্বাস্থ্য সেবায় ইউনিসেফ নবজাতক ও মায়েদের সুপেয় পানি প্রাপ্তির সুযোগ-সুবিধার প্রতি বিশেষ নজর দেয়। কারণ বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ধাত্রীসেবার মান বৃদ্ধি করে এবং মা ও শিশুর মৃত্যুর হার কমায়।

নিরাপদ পানি এইডস আক্রান্ত ব্যক্তি এবং তাদের সেবাদাতাদের জন্যও অপরিহার্য। নিরাপদ পানির পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং উন্নত হাইজিন রোগীদের জীবাণু সংক্রমণ থেকে রক্ষা এবং তার জীবনমানের উন্নয়ন ঘটায়।

২০৩০ সাল নাগাদ দুই কোটি ৪০ লাখ মানুষের জন্য সুপেয় পানি প্রাপ্তির টেকসই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারের সঙ্গে কাজ করছে ইউনিসেফ

ইউনিসেফের কার্যক্রমে নারী ও মেয়েদের প্রতি নজর দেওয়ার পাশাপাশি ঋতুকালীন পরিচ্ছন্নতার স্বাস্থ্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হয়। মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপদ পানির সরবরাহে এই পর্বে লেখাপড়া শেষ করার হার, বিশেষ করে কিশোরীদের শিক্ষা সমাপনীর হার এবং বিয়ের বয়স বৃদ্ধির প্রমাণ পাওয়া গেছে। 

অপুষ্টির অন্যতম কারণ ডায়রিয়া এবং অন্ত্রে প্রদাহজনিত রোগ এড়াতেও সুপেয় পানি ও স্যানিটেশনে সহযোগিতা দেয় ইউনিসেফ।

দুর্গম অঞ্চলে কম ব্যয়ে সেবা দেওয়ার জন্য সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করে ইউনিসেফ। যেমন ঢাকা ওয়াসার সঙ্গে ইউনিসেফের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বস্তিগুলোতে বৈধ পানির সংযোগ দেওয়া সহজ হয়েছে।

উপকূলীয় এলাকার জমিতে লবণাক্ততা ঢোকা বন্ধে সমাধান বের করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কাজ করছে ইউনিসেফ। এছাড়া জলবায়ু সহিষ্ণু প্রযুক্তির প্রসারে পৃষ্ঠপোষকতা করার পাশাপাশি এ খাত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে ইউনিসেফ।

সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, অভিযোজন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সামলে নেওয়ার কার্যক্রমেও সমন্বয় করা হয়।

নিরাপদ পানি নিশ্চিতের প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার লক্ষ্যে আর্সেনিকমুক্ত ইউনিয়ন ও উপজেলাকে উদাহরণ হিসেবে সামনে এনে এক্ষেত্রে সমন্বিত মডেল তুলে ধরেছে ইউনিসেফ। কমিউনিটিভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা প্রণয়ন, কার্যক্রম পরিচালনা এবং সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণে নারীর অংশগ্রহণ কীভাবে টেকসই ও ফলপ্রসূ করা দরকার, তা ইউনিসেফের কর্মসূচিতে তুলে ধরা হয়।

টেকসই ও যে কোনো সংকট সামাল দেওয়ার মতো ক্ষমতাসম্পন্ন সেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কমিউনিটি সদস্যদের তথ্য, সহায়তা ও সম্পদের যোগান দেওয়া হয়। 

ইউনিসেফ মনে করে, কমিউনিটির সদস্যদের সম্পৃক্ত করা ও ক্ষমতায়ন এবং তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি বিশেষত নারী, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সেবা টেকসই করতে সহায়ক হবে।

নাগরিক সমাজের নানা সংগঠনকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে মিলে কাজ করে ইউনিসেফ। বিভিন্ন সেবায় কমিউনিটির সদস্যদের সম্পৃক্ত করা, তাদের মধ্যে এসবকে নিজেদের মনে করার উপলব্ধি এনে দেওয়া, সামাজিক পরিবর্তন এবং পলিসি পরিবর্তনে তারা যেন সোচ্চার হন সে লক্ষ্যে এটা করা হয়।

Design a site like this with WordPress.com
Get started